ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না চীন: যুক্তরাষ্ট্র
এবার চীন ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেল বহনকারী চীনা জাহাজ আটকে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক তেলবাহী জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চীন ইরান থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেল বহনকারী চীনা ট্যাংকারগুলোকে আটকে দেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘তারা (চীন) তেল নিতে পারবে না। তারা অন্য উৎস থেকে তেল পেতে পারে, কিন্তু ইরানের তেল নয়।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীন বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে নির্ভরযোগ্য আচরণ করছে না। বেসেন্টের অভিযোগ, চীন একদিকে তেলের মজুত বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে কিছু পণ্যের রপ্তানি সীমিত করছে। এ বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এই বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিং সফরের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না— সে প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি তিনি। বেসেন্ট বলেন, ‘এই সফরের বার্তা হওয়া উচিত স্থিতিশীলতা। গত গ্রীষ্মের পর থেকে আমাদের সম্পর্ক বেশ স্থিতিশীল রয়েছে এবং এই স্থিতিশীলতা ওপরের স্তর থেকেই এসেছে। যোগাযোগই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী গত সোমবার থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট আটটি তেলবাহী জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংবাদমাধ্যমটি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের বন্দর থেকে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় প্রতিটি জাহাজের সঙ্গে রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাদের পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। সবগুলো জাহাজই এই নির্দেশ মেনে নিয়েছে এবং কোনও জাহাজে সরাসরি অভিযান চালানোর প্রয়োজন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগামী ও সেখান থেকে বের হওয়া সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই অবরোধ বাস্তবায়নে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। তারা আরও জানায়, একটি সাধারণ ডেস্ট্রয়ার জাহাজে ৩০০ জনের বেশি নাবিক থাকে। এসব নাবিক সমুদ্রপথে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনায় উচ্চ প্রশিক্ষিত।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310
Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD


মন্তব্য