ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত দুবাইয়ের পর্যটক খাত, বন্ধ হচ্ছে বিলাসবহুল হোটেল
এবার দুবাইয়ের বিশ্ববিখ্যাত বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরব বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য আগামী ১৮ মাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ফলে দুবাইয়ে পর্যটক সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) হোটেলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জুমেইরাহ এক বিবৃতিতে জানায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সংস্কার কাজ কয়েক ধাপে পরিচালনা করা হবে। প্যারিস ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ স্থপতি ট্রিস্টান আউয়ার এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোটেলের এক কর্মী নিশ্চিত করেছেন, সংস্কার চলাকালীন বুর্জ আল আরব পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং যাদের ইতিমধ্যে বুকিং দেওয়া আছে, তাঁদের নিকটবর্তী বিকল্প হোটেলগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান পরিচিতি এই পালতোলা আকৃতির হোটেলটি গত মার্চ মাসে ইরানের ড্রোন হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও জুমেইরাহ তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরান যুদ্ধের কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা পর্যটন শিল্পে ধস নামিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে এই অঞ্চল থেকে বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন মুছে গেছে এবং ১৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের যে দীর্ঘদিনের সুনাম ছিল, তা এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
সৌদি আরব বা ওমানের অর্থনীতি তেলের দাম বাড়ার ফলে লাভবান হলেও, দুবাইয়ের পর্যটন, আবাসন এবং অর্থবাণিজ্য ভিত্তিক অর্থনৈতিক মডেলটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথ্য বলছে, গত ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন এবং ১৫টি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে ইসরায়েলের পর এটিই এখন সবচেয়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশে পরিণত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বুর্জ আল আরব ছাড়াও পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দুবাইয়ের বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ১৮ মাসের এই সংস্কার সময়কালকে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার এবং হোটেলের নতুন রূপ দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এই অঞ্চলের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310
Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD


মন্তব্য