চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পাকিস্তানের বার্তা
এবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনও সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থায় আলোচনার পরবর্তী ধাপ সামনে রেখে দুই পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ সুগম হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘দুই পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি’। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, দুই পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের দিকে এগোবে।’ ইসহাক দার আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজ করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই ‘যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে’ এবং এতে তিনি দুই পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষই ‘ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে টেকসই শান্তি অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে’।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তার আপত্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, কিন্তু মার্কিন শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এর ফলে ইরান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আলোচনা কোনও ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এদিকে উচ্চপর্যায়ের ওই আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন। ইসলামাবাদে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার ‘রেড লাইন’ বা যেসব শর্তে দেশটি ছাড় দিতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট করেছে, কিন্তু ইরান ‘আমাদের শর্তে রাজি হয়নি’।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কোনও অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে’। ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন পাকিস্তান ছেড়ে দেশে ফিরে যাবেন বলেও জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু খারাপ খবর হলো, আমরা এখনও কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।’ এসময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেডি ভ্যান্স। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন অথবা যে সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন, এর জন্য পাকিস্তানিরা দায়ী নয়, বরং তারা অসাধারণভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ আলোচনাকে ‘নিবিড়’ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু চলমান আলোচনার সাফল্য ‘প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত চাওয়া ও বেআইনি অনুরোধ’ করা থেকে বিরত থাকতে এবং ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

