মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ভ্যান্সকেই চেয়েছিল ইরান

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১:০০:৫৫

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে। জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো এক টেবিলে মুখোমুখি আলোচনা করছে দু’দেশ। দীর্ঘ সময় এবং এক মাসের বেশি যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই বৈরী দেশের এমন স্বাভাবিকতা দেখে হয়তো পুরো বিশ্ব অবাক হয়েছে। তবে, এর পেছনে রয়েছে বড় তাৎপর্য।

বলা যায়, এবার প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রয়টার্স বলছে, ইরানও তাকেই চেয়েছিল। একাধিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে গিয়ে তেহরানের নেতাদের একটি ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

এই নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ নীরবে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যেন প্রধান ভূমিকা পালন করেন। একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং আলোচনার সাথে পরিচিত চারজন ব্যক্তি বলেছেন, ইরান ভ্যান্সকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের অন্যতম যুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখে।

সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই খ্যাতি দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক পরিচিতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তেহরানও বিশ্বাস করে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ভ্যান্সই একটি চুক্তি করতে চাইবেন বলেও বিশ্বাস করেন তারা।

যদিও হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনার জন্য ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি এককভাবে ট্রাম্পের ছিল এবং কোন চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন।

তবে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে, তেহরানের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে গিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন ভ্যান্সের হাতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে। এছাড়া ইরানের নেতাদের একটি অংশের কাছে তাকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ মনে হয়েছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের উপস্থিতি দলটির ওজন অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় যেমন অনেক সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ছাড় দেয়ার সুযোগ-সক্ষমতাও। তবে তাকে দলে রাখা হয়েছে শান্তি আনার ক্ষেত্রে ইরান তাকে সম্ভাবনাময় একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখে এ বিবেচনা থেকেই।

ভ্যান্সের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। তবে তাদের বিশ্বাস করে না তেহরান। আগের আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তারা প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে বসে। যে কারণে ইরানি কর্মকর্তারা এ দু’জনকে আগের আলোচনাগুলো ব্যর্থ করে দেয়ার কারিগর হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, উইটকফ ও কুশনারই কূটনৈতিক আলোচনার বদলে সামরিক পদক্ষেপ বেছে নিয়েছিলেন।

এদিকে ২০২৮ সালের রিপাবলিকান ভ্যান্স মনোনয়নের প্রাথমিক দাবিদার ভ্যান্স, আলোচনা সফল হলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবেন তিনি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে বা পুরোপুরি ব্যর্থ হলে, তিনি এমন একটি বিদেশি জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন, যা হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং গ্যাসের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ভ্যান্স বলেন, তিনি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করবেন, তবে শর্ত হলো ইরানকেও একই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছুক।’

ভ্যান্স মূলত যুদ্ধ লাগানোর চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতেই বেশি আগ্রহী। এর আগে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ নিয়ে বেশ বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনেরও সমালোচনা করে আসছেন ভ্যান্স। এজন্য তিনি চূড়ান্ত কোনো সমাধান বের করতেই চেষ্টা করবেন বলে ধারণা ইরানিদের। তবে সবকিছু বলা যাবে আলোচনা পুরোপুরি শেষে কী সিদ্ধান্ত আসছে সেটির ওপর।

সূত্র: রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।