দূরপাল্লার সব ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১:২৩

এবার পর্যটনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে দেশের সব বিমানবন্দর ও দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজও শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতেও বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালুর কার্যক্রম চলছে।

‘দেশের সব বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশনের পর দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের আওতায় আনার কাজও চলছে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, পর্যটকদের সাথে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সৌজন্যমূলক আচরণ এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখলে এ উদ্যোগে সফলতা আসবে।’

সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু করা জরুরি। এতে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জরুরি যোগাযোগ সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহেন আসিফ আসাদ। আরও বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিটিসএলের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে রহস্যজনক ভোগান্তির বিষয়ে কথা বলেন বক্তারা। বৃহস্পতিবার কোন লাইনে ডিস্টার্ব হলে, তা রবিবারের আগে বা ক্ষেত্র বিশেষে তারও কয়েকদিন পরও সমাধান না হওয়ার ভোগান্তির কথা উঠে আসে সভায়।

মতবিনিময় শেষে বিকেলে মন্ত্রী কক্সবাজার সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের উদ্বোধন করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহেন আসিফ আসাদ জানান, বিটিসিএলের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউসে বিটিসিএল, টেলিটক, সাবমেরিন ক্যাবল, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব এবং জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।