ইরানকে অশালীন ভাষায় হুমকি, ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন ডেমোক্র্যাট নেতাদের

৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫:৩৬

এবার ইরানকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় একটি হুমকিমূলক পোস্ট দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খ্যাতনামা প্রবীণ রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্সসহ ডেমোক্র্যাট দলের বিভিন্ন আইনপ্রণেতা। অনেকেই তার অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) দাবি করেন। এমনকি কিছু নেতা ও অভ্যন্তরীণ মহল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা প্রয়োগের কথাও বলা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ট্রাম্প ইরানকে এ ব্যাপারে একের পর এক ডেডলাইন দেন।

সবশেষ আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই সময়সীমার মধ্যে তেহরান চুক্তি না করলে কঠোর সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।  তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ক্ষমতা আছে যে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিতে পারে। রীতিমতো গালি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রণালীটা খুলে দাও, তোরা সব পাগল হারামজাদা, নইলে তোমরা জাহান্নামে বাস করবে – শুধু দেখ!’  তিনি বলেন, ‘মানে পুরোপুরি ধ্বংস… রাত ১২টার মধ্যে শেষ করে দেয়া যাবে… আর আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই এটা করতে পারি।’ তিনি আরও জানান, এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। তিনি এটিকে ‘সেতু দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্লান্ট দিবস ও সেতু দিবস, সব একসাথে’। 

কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টকে ‘অস্থির ও বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইয়াসমিন আনসারী ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। হাকীম জেফ্রিস ও বার্নি স্যান্ডার্সসহ অন্যান্য নেতা ট্রাম্পের হুমকিকে অনৈতিক ও অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিনেটর এলিসা স্লটকিন বলেছেন, বেসামরিক নাগরিক লক্ষ্যবস্তু হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এরই মধ্যে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা কেন্দ্র ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে সামরিক কর্মকর্তাদের যুদ্ধাপরাধে অংশ নিতে নির্দেশ দেয়া যায় না। বার্নি স্যান্ডার্স লিখেছেন, ‘ইরানে যুদ্ধ শুরু করার এক মাস পর, ইস্টার সানডেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এটাই বক্তব্য। এটা একজন বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তির প্রলাপ। কংগ্রেসকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।’

ভারমন্টের আরেক কংগ্রেস সদস্য বেকা বালিন্ট বলেন, ‘এটা দেখে মনে হচ্ছে আমার রিপাবলিকান সহকর্মীরা সবকিছুরই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াকে মেনে নিয়েছে। তারা এই ব্যক্তিকে সমর্থন করতেই থাকবে, তিনি যতই অযোগ্য বা অস্থিতিশীল হোন না কেন।’ সিনেটর ক্রিস মারফি লিখেছেন, ‘আমি যদি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তাহলে ইস্টারের দিনই ২৫তম সংশোধনী নিয়ে সাংবিধানিক আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতাম। এটা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ। তিনি ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন, আরও হাজারো মানুষ মারা যাবে।’

প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতা ম্যাক্সিন ডেক্সটার রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। ট্রাম্প স্পষ্টতই এই পদে থাকার যোগ্য নন। তার পোস্ট অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাভাবিক। জিওপি তথা রিপাবলিকান পার্টিকে জেগে উঠতে হবে।’ সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার লিখেছেন, ‘শুভ ইস্টার, আমেরিকা। যখন আপনারা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় উন্মাদের মতো কথা বলছেন। তিনি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন এবং মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা তিনি যেমন, কিন্তু এটা আমরা নই। আমাদের দেশ আরও ভালো কিছু প্রাপ্য।’

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।