৩ শব্দের বার্তা পাঠিয়েছিলেন ইরানে আটকে পড়া মার্কিন সেনা, ট্রাম্প ভেবেছিলেন ফাঁদ

৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০:৫৫

এবার বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ে নিখোঁজ মার্কিন বিমানসেনা যখন শেষমেশ যোগাযোগ করেন, তার পাঠানো সংক্ষিপ্ত বার্তাটি ওয়াশিংটনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছিল। এটি কোনো ইরানি ফাঁদ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভূপাতিত এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ইগল থেকে ইজেক্ট করার পর ওই অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা রেডিওতে একটি অস্বাভাবিক সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘‘সে বলেছিল, ‘পাওয়ার বি টু গড’।’’ অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘রেডিওতে তার কথা মুসলিমদের মতো শোনাচ্ছিল।’ পরে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই কর্মকর্তা ধর্মপ্রাণ হওয়ায় এমন কথা বলা স্বাভাবিক। একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ট্রাম্পের বক্তব্য নিশ্চিত করে জানান, ব্যবহৃত সঠিক বাক্যটি ছিল ‘গড ইজ গুড’। একই বাক্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ওই বিমানসেনার কাছে একটি যোগাযোগযন্ত্র, ট্র্যাকিং বিকন এবং একটি হ্যান্ডগান ছিল। ইরানি ও মার্কিন বাহিনী যখন তাকে খুঁজছিল, তখন তিনি পাহাড়ের ফাটলে লুকিয়ে থাকেন, অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু পর্যন্ত উঠে যান। যাতে অনুসরণকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে পারেন। তার অবস্থান ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও অজানা ছিল।

শেষ পর্যন্ত সিআইএ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর সেই তথ্য হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে শেয়ার করা হয় এবং শনিবার রাতে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রসঙ্গত, ৩ এপ্রিল দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমানের পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তাকে খুঁজে পেতে দুই দিন সময় লাগে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।