ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অচিরেই আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হবে: জাতির উদ্দেশ্যে ট্রাম্প
এবার ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অচিরেই ‘আমেরিকার মূল ভূখণ্ড, ইউরোপ এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে’ আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএনকে জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই।
এদিকে ভাষণে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গত মাসে উপকূল থেকে ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা চালানোর চেষ্টা তেহরানের বর্ধিত সামরিক সক্ষমতারই ইঙ্গিত দেয়। তিনি দাবি করেন, ‘তারা (ইরান) যতটা সম্ভব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চেয়েছিল এবং তাদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র ছিল যা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি। আমরা সেগুলো সব ধ্বংস করে দিয়েছি।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পর্যায়ে নেই। যদিও ইরানের কাছে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি, কিন্তু ৬ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের এখনো তৈরি হয়নি। এমনকি ২০২৫ সালের একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের এই সক্ষমতা অর্জন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

