রাশিয়ার কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেন জেলেনস্কি

৩১ মার্চ ২০২৬, ৫:১৮:২২

এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আসন্ন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে রাশিয়ার সঙ্গে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপকালে তিনি এই প্রস্তাবের পাশাপাশি উভয় পক্ষকে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও আহ্বান জানান। জেলেনস্কি মনে করেন, জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ করলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা জীবনকে সম্মান করে এমন সব ‘স্বাভাবিক মানুষ’ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইবে। তবে তিনি এও সতর্ক করে দিয়েছেন, ইউক্রেনের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। উল্লেখ্য, এ বছর অর্থোডক্স ইস্টার আগামী ১৬ এপ্রিল উদযাপিত হবে।

এদিকে গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এককভাবে ইউক্রেনের সঙ্গে ৩০ ঘণ্টার একটি ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যদিও দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল। সেই সময় জেলেনস্কি মস্কোকে এই সাময়িক বিরতিকে ৩০ দিনে বর্ধিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন যাতে একটি স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হয়, কিন্তু পুতিন সেই প্রস্তাবটি উপেক্ষা করেছিলেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার শান্তি আলোচনা স্থগিত রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা এই যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেলেনস্কি সোমবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের কিছু অজ্ঞাত ‘অংশীদার’ দেশ গত কয়েক দিনে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য কিয়েভকে সংকেত দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রুশ শিপ টার্মিনাল এবং শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ফলে চলতি মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে না। অর্থাৎ, জ্বালানি যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জেলেনস্কির এই নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যে সংকটের মুখে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের তীব্রতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর এই প্রস্তাব কতটা প্রভাব ফেলবে এবং পুতিন ইস্টার উপলক্ষে পুনরায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবেন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েছে। আপাতত কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা নতুন কোনো পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন। সূত্র: মস্কো টাইমস

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।