ইরান যুদ্ধের খরচ বহনে আরব দেশগুলোকে আহ্বান ট্রাম্পের

৩১ মার্চ ২০২৬, ১:০২:০৮

এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের ব্যয় আরব দেশগুলোর কাছ থেকে আদায় করতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব দেশগুলোকে যুদ্ধের খরচ বহনের আহ্বান জানাতে পারেন। লেভিট বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যা প্রেসিডেন্ট গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরও কিছু শোনা যেতে পারে। খবর আল জাজিরার।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েতকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটকে সহায়তা করতে জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ জোগাড় করেছিল। সেই নজিরের ভিত্তিতেই এবারও অনুরূপ সহায়তা চাওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিত্রদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত না করেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। পরে এই অঙ্ক বেড়ে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে এক মাস পার হওয়ায় ব্যয় আরও অনেক বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে, যা যুদ্ধ পরিচালনা ও অস্ত্র মজুত পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে। এদিকে, ট্রাম্পঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক শন হ্যানিটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরানকে তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা উচিত। তবে ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো—হোটেল, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম এখন প্রায় ৩.৯৯ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এক ডলারের বেশি। হোয়াইট হাউস বলছে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরানের হুমকি মোকাবিলার জন্য এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতা—দুই দিক থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।