হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেলের ঢল, বিকল্প পথেই বিশ্ব সামলাচ্ছে সৌদি আরব
এবার হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’ সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহার করছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম সৌদি গ্যাজেট জানায়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল সরবরাহ সচল রাখতেই এই পাইপলাইন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরব বিকল্প রুটে জোর দিচ্ছে।
লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি দৈনিক ৭ থেকে ৯ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক দেশ বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে, যা দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে তেল সরাসরি লোহিত সাগরে পৌঁছে দিতে সক্ষম।
এর আগে, সৌদি আরামকো-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের সতর্ক করে বলেছিলেন, গ্রাহকরা ধীরে ধীরে শিপমেন্টের পথ পরিবর্তন করায় পাইপলাইনটির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং খুব শিগগিরই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে। বর্তমান পরিস্থিতি তার সেই পূর্বাভাসেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ীভাবে অস্থির থাকে, তাহলে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং বিকল্প জ্বালানি রুটের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

