যুদ্ধ বন্ধে নতুন শর্ত, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চায় ইরান

২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৪:২৬

এই সপ্তাহে যখন একজন ইরানি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধ শেষ করতে কতগুলো শর্ত পেশ করেন, তখন তিনি এমন একটি বিষয় যোগ করেন যা তেহরানের তালিকায় আগে ছিল না। নতুন শর্ত হচ্ছে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। এই সংকীর্ণ জলপথটি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চলাচল করে। এই জলপথটি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এখন এটিকে বার্ষিক সম্ভাব্য শত শত কোটি ডলার আয়ের উৎস এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে ইরান।

আক্রমণ হলে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরান দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে আসছে, কিন্তু খুব কম মানুষ আশা করেছিল যে তারা তা কার্যকর করবে। এই প্রণালি বন্ধের প্রভাবের মাত্রা তেহরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নতুন দাবিগুলো থেকে বোঝা যায় যে তারা এই প্রভাবকে আরো টেকসই করতে চাইছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘হরমুজ কৌশল কতটা সফল হয়েছে—বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখা কতটা সহজ ও সস্তা তা দেখে ইরান কিছুটা হতবাক হয়েছে। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন একে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।’

হরমুজ প্রণালির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেছেন, এই জলপথ অবরোধের সুযোগ অবশ্যই ব্যবহার করা হবে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিএনএনের এক হিসাব বলছে, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।