মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা

২০ মার্চ ২০২৬, ৪:১৯:৩৬

চলতি মার্চের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণ এবং নোঙরের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে সেই অনুমতি দেয়নি বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। লঙ্কান পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছেন, শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দেশের ভূখণ্ড যাতে কোনও পক্ষের সামরিক সহায়তা কিংবা বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে একটি ইরানি ফ্রিগেটে টর্পেডো হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটি যুদ্ধের প্রভাবে জড়িয়ে পড়ে। দিশানায়েকে বলেন, জিবুতির একটি ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দু’টি যুদ্ধবিমান ৪ থেকে ৮ মার্চের জন্য মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আমরা সরাসরি ‘না’ বলে জানিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই অনুরোধ করেছিল। একই দিনে ইরানও একটি অনুরুপ অনুরোধ জানায়। তারা ভারত থেকে নৌ-মহড়া শেষ করে ফেরার পথে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের জন্য বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চেয়েছিল। প্রেসিডেন্ট অনুরা বলেন, ‘‘আমরা ৯ থেকে ১৩ মার্চের জন্য কলম্বো বন্দরে ইরানের তিনটি জাহাজ আনার অনুরোধ তখনো বিবেচনা করছিলাম। আমরা যদি ইরানকে ‘হ্যাঁ’ বলতাম, তাহলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রকেও ‘হ্যাঁ’ বলতে হতো।’’

অনুরার এই ভাষণের সময় শ্রীলঙ্কার ২২৫ সদস্যের আইনসভায় করতালি শুরু হয়ে যায়। এর মাঝে তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু আমরা তা করিনি। আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানের ওপর অটল রয়েছি।’’ গত ৪ মার্চ দ্বীপরাষ্ট্রটির দক্ষিণ উপকূলের ঠিক কাছেই ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনাতে’ টর্পেডো হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ৮৪ জন নাবিক নিহত হন। শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী ৩২ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে।

পরদিন ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের ইরানের অপর এক জাহাজের ২১৯ জন ক্রুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই ক্রুরা বর্তমানে কলম্বোতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। শ্রীলঙ্কা একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রধান রপ্তানি বাজার। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কান চায়ের প্রধান ক্রেতা হলো ইরান। সূত্র: এএফপি।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।