হরমুজ প্রণালিতে কয়েক ডজন মাইন বসিয়েছে ইরান, হাতে আছে ৬ হাজারের বেশি
ইরানের কাছে আনুমানিক ৬ হাজার সাগর বসানোর উপযোগী মাইন রয়েছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে হরমুজ প্রণালিতে সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তেহরানের কাছে ৫ হাজারের বেশি মাইন ছিল বলে ধারণা করা হয়। আর ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা কিছুটা বেড়ে প্রায় ৬ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে পানির নিচে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিম্পেট মাইন, যা জাহাজের গায়ে লাগিয়ে দেয়া যায়। মোর্ড মাইন, যা পানির নিচে ভাসমান অবস্থায় থাকে, জাহাজের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হয়। আর বটম মাইন, যা সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা হয় এবং কাছাকাছি কোনও জাহাজ শনাক্ত করলে বিস্ফোরিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো শুরু করেছে ইরান। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মাইন পাতা খুব ব্যাপক আকারে নয়; সাম্প্রতিক কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে এক সূত্রের মতে, ইরানের কাছে এখনও তাদের ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে, ফলে তারা চাইলে এই জলপথে শত শত মাইন স্থাপন করতে সক্ষম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে বলেন, ‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তাহলে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক।’ সূত্র: সিএনএন
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
