যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল উত্তর কোরিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি যুদ্ধ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ব রাজনীতি যখন উত্তাল, ঠিক তখনই পূর্ব এশিয়াও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান ১০ দিনব্যাপী বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও সিউলের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলের ‘স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলোর কাছে শত্রুপক্ষের শক্তি বৃদ্ধি অকল্পনীয়ভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। শত্রুদের কখনোই উত্তর কোরিয়ার ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি এবং সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কতটা গভীরভাবে তাদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে, পিয়ংইয়ং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগে গত সোমবার (৯ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক মহড়াটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্রিডম শিল্ড’। ১০ দিনব্যাপী এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার চৌকস সেনা সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের কোরিয়া-ভিত্তিক বাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত অপারেশনাল পরিবেশ উন্নত করা এবং জোটের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। তবে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই মহড়াকে তাদের দেশে হামলার আগাম প্রস্তুতি বা উস্কানি হিসেবে দেখে আসছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এ বছরের ‘ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ায় গত বছরের তুলনায় ফিল্ড ট্রেনিং ড্রিলের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিম ইয়ো জং-এর মঙ্গলবারের মন্তব্য উত্তর কোরিয়ার গতানুগতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের তুলনায় কিছুটা ‘সংযত’ ছিল। বিবৃতিতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রেও কিছুটা রাখঢাক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন না, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে গেছে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
