ইরানের আরেকটি জাহাজ থেকে ২০৮ জনকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা
আইআরআইএস বুশেহর নামের একটি ইরানি জাহাজ কলম্বো বন্দরের কাছে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করেছে। ইতোমধ্যে জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সংবাদ সম্মেলনের বরাতে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জানান, জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে এবং জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রীলঙ্কায় ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে আলোচনার পর ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়ক। সেই অনুযায়ী আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওই জাহাজের কাছে পৌঁছেছে এবং ক্রুদের উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে ২০৮ জন ক্রুকে তীরে আনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন।
অনুরা কুমারা দিসানায়েক বলেন, ২০৮ জনকে জাহাজ থেকে আমাদের নৌযানে নিয়ে এসে কলম্বো বন্দরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরপর ওই জাহাজের ক্রু ও আমাদের নাবিকদের ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে তিনটি ইরানি জাহাজ ৯ ও ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, ইরানি সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই সফরের জন্য শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। জাহাজগুলো ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে অবস্থান করছিল এবং মানবিক অনুরোধে জাহাজের দু’জন কর্মকর্তাকে দেশে আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে ইরানের জাহাজ আইআরআইএস দেনা হামলার শিকার হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা সাবিমেরিন টর্পেডো দিয়ে আঘাত করে ইরানি জাহাজটি ডুবিয়ে দেয়। জাহাজ থেকে সাহায্যের আবেদন জানানোর পর ৩২ জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। তাদের চিকিৎসার জন্য গালে জাতীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানান যে, জাহাজে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন এবং পরে নিখোঁজ ৮৪ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। মৃতদেহগুলো গালে জাতীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
