ইহুদিরা মানবতার জন্য হুমকি, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপানো হয়েছে: পাকিস্তান

৩ মার্চ ২০২৬, ৫:৫৫:২১

এবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি এবং মানবতার জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা পোস্টে খাজা আসিফ জায়নবাদকে মুসলিম বিশ্বের অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি এবং ‘মানবতার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামি বিশ্বের ওপর যে প্রতিটি বিপর্যয় নেমে এসেছে, যে প্রতিটি যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসবের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শ ও রাষ্ট্রের হাত রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রশংসা করেন।

খাজা আসিফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সংঘাত ইরানের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া’ হয়েছে। এর আগে, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর, রোববার পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেশজুড়ে ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, নিহতদের মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে অন্তত ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জন রয়েছেন। পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভগুলো বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আর তাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান মূলত সুন্নি প্রধান হলেও, মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি শিয়া মুসলিম যারা সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।

পরে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করে যে, পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ফলেই এই প্রাণহানি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া ওই সময় মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।