‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাল জামায়াত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৫:০৭

এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

এদিকে বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও এটি উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ব্যবহারের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়। বাংলা ভাষা নিজেই তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষার সমন্বয়ে আজকের এই রূপ লাভ করেছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; এটি শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্র-জনতা যখন অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ভাষাগত অজুহাত দাঁড় করানো গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কাম্য নয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, এই স্লোগান উচ্চারিত হলে তাঁর ‘রক্তক্ষরণ’ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত নেতা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও কেন মন্ত্রীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না? তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর মতো অনেক ইস্যু থাকলেও সেগুলো মন্ত্রীদের স্পর্শ করে না। জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বাংলা ভাষা আমাদের গৌরবের ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। কোনো শব্দ বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা পরিহার করা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় জনগণই এর যথাযথ জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।