হান্নান মাসউদ ও আসিফ মাহমুদকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে: নাছির উদ্দীন

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৪:০৮

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হান্নান মাসউদ ও আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের জাতির কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান। স্ট্যাটাসে নাছির উদ্দীন নাছির লিখেছেন, নোয়াখালীর হাতিয়া সংক্রান্ত যে অভিযোগটি সুপরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছিল, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে তা ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

তিনি দাবি করেন, নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ২৮ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। একই সময়ে তিনি অন্যত্র গিয়ে ঘটনা ঘটিয়েছেন এমন দাবি বাস্তবতা ও যুক্তির পরিপন্থি। বিশেষ করে হাতিয়া থেকে জেলা সদর হাসপাতালে যাতায়াতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সময়ে দুই স্থানে উপস্থিত থাকার অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে অসঙ্গত ও প্রশ্নবিদ্ধ। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার কর্মসূচি স্থগিত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন ছাত্রদল সম্পাদক। তার ভাষ্য মতে, এ সিদ্ধান্ত ঘটনাটির ভিন্ন মাত্রা ও অন্তর্নিহিত বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ‘মব’ তৈরির অপচেষ্টা এবং একটি রাজনৈতিক দলকে হেয় করার চেষ্টা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে এনসিপির হান্নান মাসুদ ও আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং মিথ্যা অপপ্রচারের দায় স্বীকারের আহ্বান জানান নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, অপপ্রচার বন্ধ হোক এবং স্পর্শকাতর ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সংস্কৃতি পরিহার করা হোক। এর আগে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে দেয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে আব্দুল হান্নান মাসউদের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহিতার দাবি তোলেন।

ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি ও স্থানীয় পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে ঘটনাটি অনেকের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক।

স্টাটাসের সত্যতা নিশ্চিত করে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, হাতিয়ার ঘটনাকে ঘিরে যে অভিযোগটি পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, স্থানীয় প্রশাসন, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে তা অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি, যারা এই অপপ্রচার ছড়িয়েছেন-তাদের উচিত জাতির কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা। সত্য উদঘাটন হোক, অপপ্রচার বন্ধ হোক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এবিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী নিজে থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে হাতিয়া থানা পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাকে বারবার অভিযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা করেননি। তাই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।