জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গোপন বৈঠক নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে রাজনৈতিক বলয় গঠনের অভিযোগ, দপ্তরজুড়ে অসন্তোষ

১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৮:৪৭

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর উদ্যোগে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দপ্তরজুড়ে তীব্র আলোচনা, ফিসফাস ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য দপ্তরীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর অভিজাত ওই হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য মোঃ সুলতান মাহমুদ—যিনি সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, জামালপুর জেলা এবং বর্তমানে ওএসডি হিসেবে ডিপিএইচই সদর দপ্তরে সংযুক্ত—এবং ডিপিএইচই’র প্রকল্প পরিচালক (পিডি) গোলাম মুক্তাদির মিল্টন।

সূত্রগুলোর দাবি, এই গোপন বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিপিএইচই’র ভেতরে প্রো-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী প্রশাসনিক বলয় প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের জন্য বিভিন্ন অনৈতিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করার কৌশল নির্ধারণ। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী তিন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত।

দপ্তরীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যা বর্তমানে তাদের প্রশাসনিক ভূমিকা ও সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ডিপিএইচই’র একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এই কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, পেশাগত বঞ্চনা ও মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অভিযোগ, বদলি, পদায়ন, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ডিপিএইচই একটি কারিগরি ও সেবামুখী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে যদি সিদ্ধান্ত পাঁচ তারকা হোটেলের গোপন বৈঠকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

দপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভয় ও চাপের একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বদলি, অবমূল্যায়ন বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এই গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে ডিপিএইচই’র অভ্যন্তরে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ডিপিএইচই’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কিংবা ডিপিএইচই’র শীর্ষ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ, উচ্চপর্যায়ের ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে দপ্তরের ভেতরের সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।