বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের ৮ মুসলিম শ্রমিককে বেধড়ক মারধর

৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৬:৫৮

শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলায় অপরাধ! বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ৮ সংখ্যালঘু মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের আভিযোগ উঠেছে ওই রাজ্যের স্থানীয় বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ছত্তিশগড়ের রাইপুর জেলার সুরজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ৮ জন শ্রমিকের মধ্যে চারজনই নাবালক।

রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তরা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দা। পুরুলিয়ার মফস্বল থানার চেপরি গ্রাম এবং আরশা থানার ভূর্ষা গ্রাম থেকে ওই শ্রমিকরা ছত্তিশগড়ের সুরজপুর থানা এলাকার ‘মা দুর্গা’ নামক একটি বেকারিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। গতকাল সকালে ৩ জন শ্রমিকের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। বাকিরাও ছুটির আবেদন জানালে বেকারির মালিক পাওনা মিটিয়ে সবাইকে ছেড়ে দিতে রাজি হন।

এরইমধ্যে সোমবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুরে আচমকাই বজরং দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে বেকারিতে চড়াও হয়। শ্রমিকদের পরিচয় এবং বাড়ি কোথায় জানতে চায় তারা। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গ ও তাদের বাংলায় কথা শুনেই ওই যুবকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে গালিগালাজ করা হয়। নাম-পরিচয় বললে ভোটার এবং আধার কার্ড দেখাতে বলে তারা। সেটাও করেন পাঁচজন। কিন্তু তাতেও ‘খুশি’ হতে পারেননি আক্রমণকারীরা। ‘বাংলাদেশি’ বলে শুরু হয় মারধর। কিল-চড়-ঘুষির পাশাপাশি লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু হয়।

খবর পেয়ে এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুরজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আক্রান্তদের আটজনের প্রত্যেকেই এই ঘটনায় আহত হন। পরিযায়ী শ্রমিকেরা জানান, উদ্ধার করার পর পুলিশই তাদের রাঁচীর একটি বাসে তুলে দেয়। মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়ায় নিজেদের গ্রামে পৌঁছে যান চার জন। কিন্তু বাকি চারজন এখনও বাড়ি ফেরেনি। তাদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা চারজনই নাবালক।

ছত্রিশগড় রাজ্য পুলিশ জানায়, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আক্রান্তদের তাদের নিজের রাজ্যে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়াড়ি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজ্য পুলিশ। সোমবার দুপুরে খবর পাওয়ার পরেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে ছত্তিশগড় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘নিজে সুরজপুর জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলি। ওই আটজন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিচয় যাচাই করে ছত্তীশগঢ়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। পরে চারজন শ্রমিককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরও চারজন নাবালক হওয়ায় এখনও তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাদের স্থানীয় একটি সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আশা করছি, তাদের দ্রুত বাড়ি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

চেপরি গ্রামের বাসিন্দা শেখ আসলাম শেখ বলেন, ‘আমরা ওখানে (ছত্তীশগঢ়ে) নিজেদের মধ্যে বাংলাতেই কথা বলতাম। সোমবারও তা-ই করছিলাম। তখনই কয়েকজন আমাদের পরিচয় জানতে চায়। তাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিলাম। তারপরেও রেহাই মেলেনি। আমাদের বাংলাদেশি বসে বেধড়ক মারধর করেছে।’

কোনোরকমে জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসা এই শ্রমিকরা এতটাই আতঙ্কিত যে তারা আর প্রতিবেশী রাজ্যে কাজে যেতে চাইছেন না। তাদের আবেদন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন জেলাতেই তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। নয়তো এমন কিছু কাগজপত্র করে দেয়া হোক যাতে ভিন রাজ্যে গিয়েও তাদের কোনো বিপদে পড়তে না হয়।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।