হাদি ছাড়াও কিলিং টার্গেটে আছেন যারা! বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
এবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অভিযোগ করেছে যে, শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হতে পারে—এমন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারকে আগেই জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে আসে।
জানা যায়, টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় ওসমান হাদি ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ-সহ আরও কয়েকজন জুলাই সংগঠকের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনৈক আইনজীবীর সূত্রে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ উচ্চপর্যায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। খোদ ওসমান হাদিসহ তিন জুলাই যোদ্ধা নিজেরাই হুমকির বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীলদের নজরে আনেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওই আইনজীবী পেশাগত কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এসব তথ্য পেয়েছিলেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপদ আসন্ন বলেও সতর্ক করেন। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন হামলার তথ্য পেয়ে আমরা সরকারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়িয়ে এমন হামলা ঠেকানো সম্ভব নয় এবং মাঠের রাজনীতিতে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করাও সম্ভব নয়।
ফুয়াদ জানান, তাঁরা সরকারকে বারবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন করা আদৌ সম্ভব নয়।” সূত্রমতে, হামলার হুমকির বিষয়ে আগাম তথ্য পেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওই আইনজীবী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এসে হাদি, ফুয়াদ এবং হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে উদ্বেগ জানালে সরকারের তরফে তাদের বডিগার্ড বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে কর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের কথা বিবেচনা করে তারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।
হামলার আগাম তথ্য জানানো যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইনজীবী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাদির ওপর হামলা ঠেকানো গেল না। অন্যদের ক্ষেত্রেও জীবনের ঝুঁকি রয়ে গেছে।” এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং আইজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তবে রাত ১২টায় আইজিপি বাহারুল আলম ফিরতি বার্তায় জানান, “এ রকম কোনো কিছু আমরা পাইনি।”
এদিকে, পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হাদির ওপর হামলায় বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসাবে ফিলিপ ওরফে গারো ফিলিপ নামের এক ভাড়াটে কিলারের নাম পাওয়া গেছে। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে এবং ফিলিপকে ধরতে পারলে কিলিং মিশনের নেপথ্যে জড়িতদের নাম জানা যাবে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
