সীমান্তে পচছে ভারতের পেঁয়াজ, বিক্রি হচ্ছে ২ রুপি কেজি দরে

৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৮:৫৩

কয়েকদিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দেয়ায় দেশটির পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা ‘কাঁদছেন’। পেঁয়াজ রপ্তানি নিয়ে ভারত বারবার হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। ঘোর বিপদে পড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন পানির দামে পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন।

জানা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় পচে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া হাজার হাজার প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ। জেলাটিরর সঙ্গে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত আছে। মালদহের মাহাদিপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে, (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা) এবং ৫০ কেজির এক-একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬ টাকা)।

মালদহের স্থানীয় বাজারে অবশ্য পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২২ রুপি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে পেঁয়াজ কাটার আগেই চোখে পানি আসছে ব্যবসায়ীদের।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।

মালদহের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এবং রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেছেন, ‘বছরের এই সময়ে সাধারণত বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এই দিক আমলে নিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক এবং কেউ তার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ মজুত করেছে। এসব পেঁয়াজ ইন্দোর এবং নাসিক (ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের দুই জেলা) থেকে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন সেগুলো পচছে এবং আমরা ২, ৬,৮ অথবা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজাারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

আরেক রপ্তানিকারক জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাস আগেও যখন আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল— সেসময় আমি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতাম। এখন আমার ট্রাকগুলোর পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং নামমাত্র মূল্যে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।