কিয়ামতের দিন যাদের ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল হবে না

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:৪২:৩৩

কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে কেউ কারও হবে না। প্রত্যেকেই ‘ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি’ করতে থাকবে। এমনকি বিভীষিকাময় সেই দিনে বাবা-মা, সন্তান-সন্ততিরও হুঁশ থাকবে না কারও।

পবিত্র কুরআনে কিয়ামত দিবসের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সেদিন কিছু কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে। সহাস্য, প্রফুল্ল। আর কিছু কিছু চেহারার ওপর সেদিন থাকবে মলিনতা। (সুরা আবাসা, আয়াত: ৩৪-৪০)

সেদিন বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এজন্য পরকালে সফল হতে পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহান আল্লাহর হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণও জরুরি। তাহলেই পরকালে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।

পবিত্র কুরআনে খোদ মহান রব ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।

বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে তাই উম্মতদের নানা বিষয়ে যেমন আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এরমধ্যে দু’টি হাদিসে কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে, কিয়ামতের দিন যাদের ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল হবে না।

হাদিসে এসেছে, আলী (রা.) বলেছেন, কিতাবুল্লাহ (কুরআন) ব্যতীত আমাদের আর কোনো কিতাব তো নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। তবে এ লিপিখানা আছে। রাবী (হাদিস বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি (আলী রা.) তা বের করলেন। দেখা গেল যে, তাতে জখম ও উটের বয়স সংক্রান্ত কথা লিপিবদ্ধ আছে। হাদিস বর্ণনাকারী বলেন, তাতে আরও লিপিবদ্ধ ছিল যে, আইর থেকে নিয়ে অমুক স্থানের মধ্যবর্তী মদিনার হারাম। এখানে যে (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’য়ালা তার কোনো ফরজ আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না।

হাদিসটিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি মনিবের (মালিক) অনুমতি ছাড়া কোনো গোলামকে (ক্রীতদাস) আশ্রয় প্রদান করে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের লানত। তার কোনো ফরজ বা নফল কিয়ামতের দিন কবুল করা হবে না। সমস্ত মুসলিমের জিম্মাই এক, একজন সাধারণ মুসলিম এর চেষ্টা করবে। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের আশ্রয় প্রদানকে বাচনাল (আশ্রয় দেয়া বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি) করে তার ওপর আল্লাহর, ফেরেশতার এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন তার কোনো ফরজ ও নফল কবুল করা হবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৯৯)

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।