প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত জামায়াতের প্রার্থী তালিকা, থাকছে না ‘পরিবারতন্ত্র’!

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৯:৩৪

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী মনোনয়নে ভিন্নধর্মী ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ‘পরিবারতন্ত্র’ এড়াতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্ত্রী-কন্যা বা নিকটাত্মীয়দের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ভোটের শতাংশ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ পাচ্ছে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন। এর মধ্যে ১১টি আসনে জামায়াত নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি এনসিপি-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও অন্যটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া জামায়াত প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন লাভ করছে। এই অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে জামায়াত পাবে ১১টি। কোনো কারণে বণ্টন আসনসংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে। জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করার জন্য। পুরো মার্চ মাস কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব স্তরে যোগ্য প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষে দলের মহিলা বিভাগ একটি ১২ সদস্যের তালিকা কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীকে জমা দেয়।

ভোটের শতাংশ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ পাচ্ছে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন। এর মধ্যে ১১টি আসনে জামায়াত নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটি এনসিপি-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলেও অন্যটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেখান থেকে ১১ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপি বা অন্য কোনো সংগঠনের মতো ঘটা করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে না। দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ১১ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি থাকছে দুটি। ভোটের পারসেন্টেজ অনুযায়ী বাকি দুটি জোটের দুই শরিক দলকে দেওয়া হবে। সেটি নিয়ে জোটে আলাপ চলছে। এর মধ্যে একটি এনসিপি পাচ্ছে, তা নিশ্চিত করেন তিনি।

কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ  বলেন, কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তা মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার আগে থেকেই দলীয় নীতি বা মনোভাব ছিল যে, দলের মনোনয়নে এবার জাতীয় নির্বাচনে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন না। সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও জোটের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন অথবা নির্বাচন করে এমপি হতে পারেননি তাদের পরিবারের স্ত্রী বা সন্তান কেউ যদি যোগ্য ও জনপ্রিয় হন, তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।

কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন— জানতে চাইলে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ  বলেন, আমরা এখনই এটা প্রকাশ করছি না। সময় হলেই জানতে পারবেন। জোটের দুটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত হলেই জানানো হবে। সংরক্ষিত আসনের জন্য তৃণমূল পর্যন্ত মতামত নেওয়া হয়েছে। মহিলা বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা। জামায়াতে ইসলামী বিএনপি বা অন্য কোনো সংগঠনের মতো ঘটা করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে না। দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ১১ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি থাকছে দুটি। ভোটের পারসেন্টেজ অনুযায়ী বাকি দুটি জোটের দুই শরিক দলকে দেওয়া হবে। সেটি নিয়ে জোটে আলাপ চলছে। এর মধ্যে একটি এনসিপি পাচ্ছে

তিনি গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম— এমন যোগ্য প্রার্থীদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দল পরিচালনার যোগ্যতা এবং দলীয় পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সততা, অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন; যোগ্যতার সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন— এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১২ জনের একটি তালিকা জামায়াত আমিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, জামায়াতের নির্বাচিত এমপিদের পরিবারের কেউ পাচ্ছেন না সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন।

আলোচনায় যারা

১২ জনের তালিকায় রয়েছেন— কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একাধিক সদস্য, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক শীর্ষ নেত্রী, গণমাধ্যমে পরিচিত মুখসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রীরা। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে জামায়াতের নারীনেত্রীদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নীতিগত অবস্থান পাল্টে নারী শাখা অভ্যুত্থানের পরে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করেছে, গণমাধ্যমেও হাজির হয়েছেন কেউ কেউ। তাদের কেউ কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজের নাম আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও জামায়াতের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ড. ফেরদৌস আরা বকুল প্রার্থী হিসেবে দলের বিবেচনায় রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে গেলে শরিক জামায়াতের চার নারী সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৬ সালেও দুই নারী সংরক্ষিত আসনে সদস্য হয়েছিলেন। সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নারীপ্রার্থী না দিলেও ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত ৩৬ জন ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১-০৬ মেয়াদে সংরক্ষিত আসনে জামায়াত মনোনীত সদস্য ছিলেন জামালপুরের সুলতানা রাজিয়া (বর্তমানে ঢাকা), জামায়াতের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম (সিলেট), রাজশাহী থেকে শাহানারা বেগম ও সাতক্ষীরা থেকে বেগম রোকেয়া আনসার।

সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম— এমন যোগ্য প্রার্থীদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দল পরিচালনার যোগ্যতা এবং দলীয় পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সততা, অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন; যোগ্যতার সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন— এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১২ জনের একটি তালিকা জামায়াত আমিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, জামায়াতের নির্বাচিত এমপিদের পরিবারের কেউ পাচ্ছেন না সংরক্ষিত

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নাম কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ। ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী ২১ জন। এই নারী সদস্যদের বেশির ভাগ জামায়াতের মহিলা বিভাগের এবং ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। এর মধ্যে দলের আমিরসহ দায়িত্বশীল নেতাদের স্ত্রী-কন্যাও রয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মইনুদ্দিন খান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন মনির হোসেন। এছাড়া, চারজন পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত থাকবেন।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য