আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবনের শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান

২৭ মার্চ ২০২৬, ৩:০৩:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে চলমান শোক ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন ইংলিশ’ দাবি করেছে যে, এটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তার কার্যালয়ে তোলা শেষ ছবি। ছবিতে তাকে তেহরানে নিজ দপ্তরে অবস্থানরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় তার নিহত হওয়ার ঠিক পূর্বের সময়কে ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খামেনির এই ছবি প্রকাশের বিষয়টি তার অনুসারীদের মধ্যে যেমন আবেগের সৃষ্টি করেছে, তেমনি যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি ভয়াবহ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ সে সময় জানিয়েছিল, সকালের দিকে যখন এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়, তখন খামেনি তার দপ্তরে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হামলার পরপরই একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যৌথ অভিযানে খামেনির মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে, যিনি তার প্রাসাদ চত্বরেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির পুরো প্রাসাদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা নিহত হন।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনির নাম আলোচনায় এসেছে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি সে সময় বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন বলে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।

এদিকে গত ২৪ মার্চ প্রকাশিত এক তথ্যে জানা যায় যে, খামেনিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন। খামেনির মৃত্যুর এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমানে তেহরানের রাজপথে খামেনির এই শেষ ছবি সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যা ইরানিদের মধ্যে প্রতিরোধের স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মতো একজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার পর ইরান যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দেশটির দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হত্যাকাণ্ডকে তাদের অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করলেও, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ও পাল্টা হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। খামেনির শেষ মুহূর্তের এই ছবি মূলত একটি যুগের অবসান এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ইরানের যাত্রাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

সূত্র: দ্য ডন

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য