ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১২ মর্চ)। অধিবেশন বসবে বেলা ১১টায়। প্রথম দিনই নির্বাচিত হবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংসদের বিধি অনুযায়ী তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া তিনি সংসদে ভাষণ দেবেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে প্রথম অধিবেশনে। এ ছাড়া চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ নিয়ে এই অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হতে পারে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন।
গতকালের (১১ মার্চ) বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দলের অবস্থান অনুযায়ী ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) সংযুক্ত রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অবস্থান অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন চান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি এবং কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। এর আগে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ ওই বছরের ৫ জুন শুরু হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৯ কার্যদিবস চলার পর শেষ হয় ৩ জুলাই রাতে।
সাধারণত সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। তবে এবারের অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রথম দিনের কার্যসূচি
সাধারণত সংসদের প্রথম দিনের বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী ভাষণ দেন।
সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত হবে। এরপর সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন এবং অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর ওই সদস্যের সভাপতিত্বেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে, তবে কণ্ঠভোটের মাধ্যমেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এরপর অধিবেশন সাময়িক মুলতবি থাকবে এবং ওই সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন আবার শুরু হবে। এরপর পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, অধ্যাদেশ উত্থাপন এবং কার্যোপদেষ্টা কমিটিসহ কয়েকটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

























মন্তব্য