স্বপ্ন’র আড়ালে ‘কমিশন’ বাণিজ্য: বিজ্ঞাপন দেওয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

১১ মার্চ ২০২৬, ৩:৪৯:২৭

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ (Shwapno)-এর ভেতরে বিজ্ঞাপনের আড়ালে এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি ও কমিশন বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে কাজ দেওয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বিজ্ঞাপনে ২০-৪০% কমিশন বাণিজ্য:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বপ্ন’র বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে বড় অঙ্কের কমিশন নিতেন প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক রিলেশন (PR) ম্যানেজার মিলুকামরুজ্জামান মিলু। অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপনের মোট বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম টাকা দাবি করতেন তিনি। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক দাবির মুখে বিজ্ঞাপনের বিল ছাড় করতে বাধ্য হতো।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মিলু এই টাকার লেনদেন নিয়ে কোনো লুকোচুরি করতেন না। বরং অফিসের সবার সামনে খোলামেলাভাবেই অগ্রিম বা কমিশনের টাকার বিষয়ে আলোচনা করতেন। কেউ যদি এই অনৈতিক অগ্রিম টাকার কারণ জানতে চাইত, তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিতেন যে, এই টাকার ভাগ তাকে একাই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও দিতে হয়।

মিলুর দাবি অনুযায়ী, এই কমিশন বাণিজ্যের শেকড় অনেক গভীরে। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ওপরের দিকের কর্মকর্তাদের দিকে। মিলু বলতেন, “বিল পাস হতে নাসির স্যারের সিগনেচার লাগে। টাকার একটি বড় অংশ তাকেও দিতে হয়। এটা আমি একা নেই না, প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের স্যারদের এই কমিশনের টাকা বুঝিয়ে দিতে হয়।”

স্বপ্ন’র মতো একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে পিআর ম্যানেজারের এমন বেপরোয়া দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা কাজ করেও সময়মতো বিল পাই না, উল্টো বিল ছাড়াতে বিশাল অংকের কমিশন দিতে হয়। এটি স্পষ্টত চাঁদাবাজি।”

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্বপ্ন’র স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন, অন্যথায় করপোরেট খাতে এই ‘ঘুষ সংস্কৃতি’ আরও জেঁকে বসবে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য