হামলা হলে কী করবে ইরান, জাতিসংঘকে জানাল তেহরান

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩:১৪

ফাইল ছবি

ইরান সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের উপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে তারা ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করবে। এই অবস্থান জানিয়ে তেহরান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সায়েদ ইরভানি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিবৃতি ও সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের যুক্তি, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তার জন্য এই চাপ। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

ইরানের রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, ট্রাম্পের ‘যুদ্ধংদেহি বক্তব্য’ সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এটি কেবল আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।

চিঠিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন অবিলম্বে শক্তি ব্যবহারের ‘বেআইনি হুমকি’ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এখনও কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত।

তবে চিঠিতে স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার ৩৬ বছরের শাসনামলে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমন ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করেছেন। তবে চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার হুমকি তাকে এই সময়ে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং বিরোধিতা সুপরিচিত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়, যার ফলে হাজারো মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

এর পাশাপাশি, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের হামলায় বিপ্লবী গার্ডের কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার পর খামেনিকে গোপনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য