প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

মুস্তাফিজের হাতছাড়া ৯ কোটি, বিসিবির লস ৩০০ কোটি, আইসিসির লোকসান ৬ হাজার কোটি!

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩:১১

মাত্র ৯ কোটি রুপির মুস্তাফিজ ইস্যুতে শুরু, সেখান থেকে আইসিসির প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি। কোন ইস্যু কোথায় গিয়ে থামবে, জল কতদূর গড়াবে এটা কেউই আগে থেকে বলতে পারে না। যদি তাই হতো- তাহলে হয়তো আইসিসির এই ক্ষতি গুণতে হতো না। আর যখন আইসিসি এই লোকসানের সম্মুখীন, তখন সংস্থাটির প্রধান হিসেবে আছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জয় শাহ। আর এই ঘটনার সূত্রপাত ওই ভারত থেকেই। সুতরাং এ যেন ভারতের কথা শুনে নিজের পায়ে কুড়ুল মারলো আইসিসি। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইটরাইডার্স। কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মুখে ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা।

এছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটতে থাকে। যা ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দেখা দেয় চরম নিরাপত্তা শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে ম্যাচ না সরানোয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই বয়কট করেছে বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানও নিয়েছে এক বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত। আইসিসির দ্বিচারিতার প্রতিবাদে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। এতে করে বিশাল অঙ্কের ক্ষতির মুখে আইসিসি। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মোট বাজারমূল্য কত, সুনির্দিষ্ট গাণিতিক হিসাব নেই। তবে সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের হার, স্পনসরশিপ, টিকিট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে রক্ষণশীল হিসেবেও প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার বেশি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটির প্রতিবেদন বলছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সরাসরি আঘাত পড়বে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠানের আয়ে। বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে তারা আইসিসি থেকে স্বত্ব কেনে। শুধু একটি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩০০ কোটি রুপি ওঠে বলে ধারণা করা হয়। ম্যাচ না হওয়া মানে এই লাভটা তারা করতে পারবে না। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী জিওস্টার আগেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরত চেয়েছে। এবার ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে যা আরও জোরালো হবে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৩৮.৭ কোটি রুপি।

এর আগে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা) আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলে আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ভাগ (আইসিসির মোট আয়ের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ) হিসেবে এই অর্থ আয়ের সুযোগ থাকত। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমান হারিয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি আয়ের সুযোগ। বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। আর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির লোকসান হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। একই সাথে জরিমানা ও ম্যাচ ফিসহ বেশ মোটা অঙ্কের লোকসান হবে পাকিস্তানেরও।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য