‘আমার আগেই আমার পা স্বর্গে চলে গেছে’
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ অবরুদ্ধ গাজার শিশুদের শৈশব ধ্বংস করে দিয়েছে। আহত, পঙ্গু ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শিশু এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা ১৩ বছর বয়সী ওমর হালাওয়ার গল্প সেই রূঢ় বাস্তবতার জ্বলন্ত উদাহরণ। একদিন আনমনা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে সে হঠাৎ পড়ে যায়-কারণ সে ভুলে গিয়েছিল, তার একটি পা এখন আর নেই। গত বছর অক্টোবরে পানি আনতে গিয়ে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই হামলায় তার বন্ধু ও চাচাতো ভাই নিহত হয়। খবর আল জাজিরার।
ওমরের পরিবার তাদের তাঁবুর পাশে তার বিচ্ছিন্ন পা কবর দিয়েছে। প্রতিদিন সেখানে গিয়ে সে বলে, ‘আমার পা আমার আগেই স্বর্গে (বেহেস্ত) চলে গেছে।’ তার বোন লায়ানও মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত। যুদ্ধের শুরুতে তাদের চোখের সামনে আট বছরের এক আত্মীয়ের শিরশ্ছেদ করা মৃতদেহ দেখার পর থেকেই শিশুরা ভয়, আতঙ্ক ও ট্রমায় ভুগছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু। আহত হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার শিশু, যাদের অর্ধেকের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। অন্তত ৩৯ হাজার শিশু এক বা দুই অভিভাবক হারিয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এতিম-সংকট।
ইউনিসেফ বলছে, গাজা এখন ‘শিশুদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা’। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি শিশুর জরুরি চিকিৎসা ও বিদেশে সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন।
তীব্র অপুষ্টির পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে অনাহার ও অপুষ্টিতে। আইপিসি সতর্ক করেছে-২০২৬ সালেও গাজার ৭৭ শতাংশ মানুষ, যার মধ্যে ৮ লাখ শিশু, তীব্র খাদ্য সংকটে থাকবে।
এদিকে যুদ্ধ-সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার শিশুরা দুই বছর ধরে শিক্ষাবঞ্চিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯০ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়েছে। এখন তাঁবুর নিচে, কাগজ–কলম ছাড়াই চলছে ক্লাস।
শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন-এই যুদ্ধ শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করছে। ইউনিসেফের ভাষায়, ‘আমরা একটি পুরো প্রজন্ম হারাতে পারি-এই ঝুঁকি আর বাড়তে দেয়া উচিত হবে না।’
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

























মন্তব্য