প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

পূর্বাচলে মাঠ দখল করল কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫১:৩৩

ছবি: সংগৃহীত

এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে আড়াই বিঘা আয়তনের একটি মাঠ ব্যবহারের আবেদন করেছিল কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। কিন্তু সেই আবেদনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই মাঠটি চারপাশ থেকে দেয়াল দিয়ে ঘিরে নিজেদের ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্লটের সঙ্গে রাজউকের ওই মাঠটিকেও সীমানা প্রাচীরের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত ফুটবল খেলার মাঠ বানানো হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই।

রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ছিদ্দিকুর রহমান সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ওই মাঠ ব্যবহারের কোনো অনুমতি রাজউক দেয়নি। যারা দখল করেছে, তাদের ওই সীমানা দেয়াল ভেঙে ফেলা হবে।”

পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরের ১০৭ এবং ৪০৪ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নাফিজ সরাফাতের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজি ও ব্যাংক দখলের অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে দুদক।

রাজউকের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি মাঠটি ইজারা নিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য তাদের বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে আট বিঘা জমির পাশের জমিটি প্রয়োজন। মন্ত্রণালয় থেকে রাজউককে ‘বিধি মোতাবেক’ ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও, রাজউক কোনো অনুমোদন দেয়নি। অথচ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনুমোদন ছাড়াই মাঠটি দখল করা হয়।

রাজউকের পূর্বাচল শাখার পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, “আমরা মাঠ ব্যবহারের কোনো অনুমতি দিইনি, এমনকি কোনো লিজ দলিলও হয়নি। তারা কেন মাঠ ঘিরে রাখবে? একটি মিটিংয়ে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই অবৈধ দেয়াল ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছি।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি আদিল মুহম্মদ খান বলেন, “রাজউকের নাকের ডগায একটা বড় মাঠ দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলা হলো, আর তারা জানে না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। নাফিজ সরাফাতের মতো প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করার কালচার রাজউকে ছিল। কর্মকর্তাদের গাফিলতির তদন্ত হওয়া উচিত।”

২০০০ সালের খেলার মাঠ ও জলাধার রক্ষা আইন অনুযায়ী, খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানের শ্রেণি পরিবর্তন করা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর (ইজারা) করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাজউকের নকশায় ওই জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও তা অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিকে যে প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও রাজউকের মূল নকশায় ‘সেকেন্ডারি স্কুল’ হিসেবে ছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০১৯ সালে প্রভাব খাটিয়ে সেটির শ্রেণি পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য