যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ, সড়কে লাখো মানুষ

১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২০:৩২

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে ‘নো কিংস’ শীর্ষক আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আয়োজকদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি স্থানে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দেশজুড়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের ‘স্বৈরাচারী মানসিকতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসন’ রুখতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন।

তাদের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট মনে করেন তিনিই সর্বেসর্বা। কিন্তু আমেরিকায় কোনো রাজা নেই। আমরা বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাব।’

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সংহতি জানিয়ে জার্মানির বার্লিন, স্পেনের মাদ্রিদ এবং ইতালির রোমেও একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভ হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে ধীরে ধীরে এই আন্দোলনের সমর্থন বাড়ছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করেছে, এই বিক্ষোভে বামপন্থি সংগঠন অ্যান্টিফা জড়িত। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে কয়েকটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। টেক্সাস ও ভার্জিনিয়ার গভর্নররা আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও সামরিক উপস্থিতি কতটা দৃশ্যমান হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিবিসিকে বলেন, ‘অ্যান্টিফা সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভের আশঙ্কায় অস্টিনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’ এর নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের ডেমোক্রেটিক নেতা জিন উ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা রাজা ও স্বৈরশাসকদের কাজ। গ্রেগ অ্যাবট প্রমাণ করেছেন তিনিও সেই পথে হাঁটছেন।’

একইভাবে ভার্জিনিয়ার গভর্নর গ্লেন ইয়ংকিনও ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে বিক্ষোভের প্রধান কর্মসূচি হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসিতে, যেখানে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মূল বক্তা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসেও বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে রাজা বলে ডাকছে, কিন্তু আমি কোনো রাজা নই।’ অন্যদিকে তার সমর্থক কিছু রিপাবলিকান নেতারা এসব বিক্ষোভকে ‘হেইট আমেরিকা র‍্যালি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শাল বলেন, ‘প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে হবে। আশা করি সব শান্তিপূর্ণ থাকবে।’

এদিকে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে কয়েকজন জনপ্রিয় তারকাও যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, অভিনেত্রী কেরি ওয়াশিংটন, গায়ক জন লেজেন্ড, অভিনেতা অ্যালান কামিং, অভিনেতা জন লেগুইজামো। তাদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র:বিবিসি

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য