তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, খোলা হলো সব জলকপাট
ছবি: সংগৃহীত
উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২.১৮ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাউবো জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। রাত ৯টার দিকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচে চলে আসে এবং ভোরে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর পাড়ঘেঁষা কিছু নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যেই পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চল ও নিম্নভূমি প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেখানকার বাসিন্দারা তাদের গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
ডিমলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পানি বাড়লেও এখনো ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়নি, তবে মানুষ আতঙ্কে আছে।’
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুর বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি, বিশেষ করে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর এবং কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীপাড়ের মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


























মন্তব্য