সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ

ফের বৈঠকে সম্মত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র: দাবি পাকিস্তানি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৫৮:৫০

এবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আমেরিকা ও ইরানের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হামিদ মীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে আলাপকালে তিনি জানান, দুই দেশের প্রতিনিধিরা আরেকটি বৈঠকে বসার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। পরবর্তী বৈঠকের সময় ও স্থান পরে নির্ধারণ করা হবে। হামিদ মীর বলেন, ‘এই আলোচনাকে নিষ্ফল বলার সুযোগ নেই। কারণ, এ ধরনের সংলাপ মাত্র এক বা দুটি বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না।’ উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতিনিধি দলের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। কিছু বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং অন্য বিষয়গুলো নিয়ে নিজ নিজ দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন মনে করছেন।

সুনির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো প্রকাশ না করা হলেও হামিদ মীর উল্লেখ করেন, তারা এখনই সবকিছু জনসমক্ষে আনতে রাজি নন। তবে কিছু বিষয় আঁচ করা গেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে আলাপের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন। কোনো ‘মিডিয়া সার্কাস’ বা ঘটা করে ঘোষণা না দিয়ে তারা কেবল পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। মীর আরও জানান, আলোচনার পর ইরানি প্রতিনিধি দলটি কিছুক্ষণ পাকিস্তানে অবস্থান করলেও আমেরিকানরা ভোরেই বিদায় নেন। ইরানিরা পাকিস্তানি আয়োজকদের সঙ্গে দেখা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। যেহেতু এই যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য, তাই এর মেয়াদ বাড়াতে পরোক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করা হবে। এতে পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট প্রসঙ্গে হামিদ মীর মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে। সেখানে ঐকমত্যের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরেনিয়াম ইস্যুটি আলোচনার পথে বড় কোনো বাধা হবে না বলেই তিনি মনে করেন। হামিদ মীরের মতে, আসল সংকট হলো লেবানন পরিস্থিতি। ইরান এ বিষয়ে কোনো আপস করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এই ইস্যুতে। জেডি ভ্যান্স কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল হিসেবে দেখছেন মীর। তিনি বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে এক রকম কথা হচ্ছে আর বাইরের দুনিয়াকে ট্রাম্প দেখাচ্ছেন অন্য কিছু। এসব এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ আলোচনার টেবিলে কী ঘটছে তা ট্রাম্প ভালো করেই জানেন।’ তিনি আরও জানান, ইউরেনিয়াম এবং হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দুই দেশই একটি মধ্যপস্থায় পৌঁছাতে পারে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও ভ্যান্স ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে লেবানন ইস্যুতেই ইরানের অবস্থান সবচেয়ে অনড়। হামিদ মীর সবশেষে বলেন, ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে এই বার্তা দিতে চায়, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির লোভে তারা তাদের সাবেক বন্ধুদের ছেড়ে যায়নি। এ বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310

Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD