শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা ভারতে অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী: অমিত শাহকে প্রশ্ন মমতার ভাতিজার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:০১:০৫

এবার ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মোদী সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাতিজা প্রশ্ন তুলেছেন— দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আসলে কোন পরিচয়ে আছেন? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ভবন থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনার আইনি অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রের নীরবতাকে তিনি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সবসময় অনুপ্রবেশ নিয়ে বড় কথা বলে। কিন্তু দিল্লিতে শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে কী করছেন? ওনার স্ট্যাটাস কী? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? মোদী সরকার কেন তাঁকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে?’ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী, অমিত শাহ কি তার জবাব দিতে পারবেন?’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি বারবার বাঙালিদের টার্গেট করছে। আসামের এনআরসি-র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ১৯ লাখ মানুষের মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ দিয়ে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু বাঙালি। তিনি বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলা ভাষায় কথা বললে বা নিজের পছন্দের খাবার খেলেও মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে।’

গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান স্লোগান ছিল ‘সোনার বাংলা’। এবারের ইস্তাহারে সেই শব্দের অনুপস্থিতি নিয়ে বিদ্রূপ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘এবার আর সোনার বাংলা কথাটা শুনলাম না। বিজেপি কি ধরে নিয়েছে যে বাংলা ইতিমধ্যে সোনার বাংলা হয়ে গেছে? আসলে ইস্তাহারে এই শব্দের অনুপস্থিতি গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।’ অমিত শাহের বক্তব্যের সূত্র ধরে অভিষেক বলেন, বিজেপি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা ক্ষমতায় এলে বাংলা পরিচালিত হবে দিল্লি ও গুজরাট থেকে। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের স্বাধিকার অন্য কারো হাতে ছেড়ে দেবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রেকর্ডে যাদের নাম দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষে, তারা বিজেপিতে যোগ দিলেই সাধু হয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ বলেন, দিল্লির পুলিশ খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সত্ত্বেও সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, তাকে ‘অন্ধের মতো প্রতিশ্রুতি’ বলে অভিহিত করেন অভিষেক। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বাজেটেই এই সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, যা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো অবগত নন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন হাসিনা। বর্তমানে দিল্লিতে তিনি ঠিক কোন পরিচয়ে বা কোন স্ট্যাটাসে রয়েছেন, তা নিয়ে কেন্দ্রের নীরবতাকেই এ দিন হাতিয়ার করেছেন এই তৃণমূল নেতা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যখন তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে, তখন এ দেশে তাঁর অবস্থান নিয়ে শাহের ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অভিষেক।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD