হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ চলতে পারবে না: ইরান

১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০:২১

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন এই সীমা নির্ধারণ করে তেহরান জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টির বেশি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। ইসলামাবাদে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আগে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইরান প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টির বেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে একটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র। ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠকের আগে রুশ এই বার্তাসংস্থার কাছে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

ইরানের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, ‘বর্তমান যুদ্ধবিরতির অধীনে প্রতিদিন ১৫টির কম জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এই চলাচল পুরোপুরি ইরানের অনুমোদন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফেরার কোনও সুযোগ নেই।’

এ ছাড়া সূত্রটি জানায়, ‘ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এই দুই সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে— এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী নিশ্চয়তা।’

ইরান আরও বলছে, যুদ্ধের সমাপ্তি অবশ্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ওই সূত্র জোর দিয়ে বলেছে, ‘যদি আমাদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুদ্ধের সমাপ্তি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা গত ৪০ দিনের মতোই, বরং আরও তীব্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের (ইসরায়েল) বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।’

এছাড়া তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, এই দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা উপস্থিতি বাড়াতে পারবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে সূত্রটি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা বিনিময় হওয়া চুক্তির লিখিত অংশের প্রতিই কঠোরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেটিই মেনে চলছি।’

গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তার দাবি, দুই পক্ষ প্রায় সব বিরোধপূর্ণ বিষয়েই সমাধানে পৌঁছেছে এবং তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন ভবিষ্যৎ আলোচনার ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে দেখছে।

ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে ইরানের প্রস্তুতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে তেহরানও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনও হামলা না হলে তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ বন্ধ রাখবে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ১০ এপ্রিল দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা সরাসরি উভয়পক্ষের মধ্যেই হতে পারে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য