মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

দুঃসময়ে ইরানকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়া!

৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৪:০২

এবার মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পিয়ংইয়ংয়ের সমীকরণ এখন একদম ভিন্ন। উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল আদর্শিক বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে চলছে না। তারা অত্যন্ত হিসেবি হয়ে উঠেছে। দেশটি এখন নিজেদের স্বার্থেই ইরানকে নিরাপদ দূরত্বে রাখছে।

এদিকে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত তেহরানে কোনো নতুন সামরিক সরঞ্জাম বা মিসাইল পাঠায়নি। ৬ এপ্রিল সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টারি ইন্টেলিজেন্স কমিটির মেম্বার পার্ক সুন-ওয়ানের ব্রিফিং-এর বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

পার্ক সুন-ওয়ানের ব্রিফিং অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া তাদের চিরচেনা মিত্র ইরানের প্রতি আগের মতো আর উষ্ণতা দেখাচ্ছে না। এর সপক্ষে বেশ কয়েকটি অকাট্য প্রমাণ দিয়ে তিনি বলেন, ”উত্তর কোরিয়া কেবল যে ইরানকে অস্ত্র বা রসদ সরবরাহ বন্ধ করেছে তা-ই নয়, বরং তারা তাদের এই দীর্ঘদিনের মিত্রের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে। যেমন—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে তারা কোনো শোকবার্তা পাঠায়নি, এমনকি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা যখন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন, তখনো তারা কোনো অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে উত্তর কোরিয়া নিজেও মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। শিল্প-কারখানার কাঁচামাল বা প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের তেলের চাহিদা মেটাতে তারা এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।”

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ইরান নিজেই এখন চাপে। তাই উত্তর কোরিয়ার তেলের চাহিদা মেটানোর মতো ক্ষমতা এখন তেহরানের নেই। পার্ক সুন-ওয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত তেল ও খাদ্য পাচ্ছে। ফলে রাশিয়ার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ কিমের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এছাড়া ২০২৪ সালে পুতিন ও কিম একটি ‘ক্যামপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ সই করেছেন। এর মানে হলো, যদি উত্তর কোরিয়া আক্রান্ত হয়, তবে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু ইরানের সাথে উত্তর কোরিয়ার এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভবিষ্যতে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করতে চাচ্ছেন। ইরানের সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখালে ওয়াশিংটনের সাথে দরকষাকষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা পিয়ংইয়ং এই মুহূর্তে নিজেদের স্বার্থেই এড়াতে চায়। 

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD