রবিবার ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

নিখোঁজ পাইলট নিয়ে মার্কিন নারীকে বার্তা দিলো ইরান

৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১১:৩০
ফাইল ছবি

নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে ঘিরে এক নারীর উদ্বেগ প্রকাশের পর তাকে কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। তারা বলেছে, ইরানের হেফাজতে থাকার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে থাকাই তার ছেলেদের জন্য বেশি বিপজ্জনক।

ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন ওই মার্কিন নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তার ছেলেদের মধ্যে একজন যুদ্ধবিমানের পাইলট এবং তিনি এখনো তার বা তার ইউনিটের কোনো খোঁজ পাননি।

তিনি লিখেছিলেন, ‘অনুগ্রহ করে আজ রাতে ভূপাতিত হওয়া এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের জন্য প্রার্থনা করুন। আমার ছেলেদের একজন যুদ্ধবিমানের পাইলট। আমি এখনও তার বা তার ইউনিটের কোনো খবর পাইনি। আমার মন উদ্বেগে ভরে আছে। দয়া করে সব পাইলট ও তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’

এই পোস্টের জবাবে পাকিস্তানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘নিশ্চিন্ত থাকুন, ইরানি হেফাজতের চেয়ে ট্রাম্পের অধীনে আপনার ছেলেরা বেশি বিপদে রয়েছে। প্রার্থনা করুন, যেন তিনি মার্কিন উদ্ধারকারী দলের হাতে পড়ার পরিবর্তে ইরানের হাতে বন্দি হন। মুসলিম ও সভ্য ইরানি হিসেবে আমরা জানি কীভাবে বন্দীদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে হয়।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও একই ধরনের বার্তা দিয়েছে। তারা জানায়, তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন প্রণয়নের বহু আগেই ইরানে যুদ্ধবন্দিদের অধিকার নির্ধারিত ছিল। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, ইরান কখনই ‘জায়নবাদী’ মতো বন্দিদের সঙ্গে আচরণ করে না।

শুক্রবার পৃথক ঘটনায় ইরান দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও অন্তত একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, বিমানটি গুলি করে নামানো হয়েছে নাকি অন্য কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে ইরানি সূত্র মতে, নিখোঁজ পাইলট অবতরণ করেছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এর পরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান একাধিকবার শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও কিছু বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে ইরাকে একটি ট্যাংকার বিমান বিধ্বস্ত হওয়া এবং কুয়েতি বাহিনীর ভুলে তিনটি এফ-১৫ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় দুই ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং নিহত হয়েছে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যও।

সূত্র: এনডিটিভি

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD