ভারতে কবরস্থান থেকে ৪১৪ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১০
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের হায়দরাবাদ শহরে কবরস্থানের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত করা হয়েছিল এসব সিলিন্ডার। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪১৪টি সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রয়টার্স
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের অভিজাত এলাকা বানজারা হিলসের একটি কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এসব সিলিন্ডার রাখা হচ্ছিল। পরিকল্পনা ছিল বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এগুলো চড়া দামে বিক্রি করা। হায়দরাবাদ পুলিশের টাস্ক ফোর্স ও স্থানীয় থানার যৌথ অভিযানে এই চক্রের সন্ধান মেলে এবং বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্ধার হওয়া ৪১৪টি সিলিন্ডারের মধ্যে বিভিন্ন মাপের ভরা ও খালি উভয় ধরনের সিলিন্ডার ছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ১১টি পরিবহন যানবাহনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডার ও যানবাহনের মোট মূল্য প্রায় ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন গ্যাস সরবরাহকারী, কয়েকজন ডেলিভারি কর্মী, চালক এবং শ্রমিক। পুলিশ অভিযোগ করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে এই বেআইনি মজুতদারি চালিয়ে আসছিল এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে কাজে লাগিয়ে বাজারে চাপ সৃষ্টি করছিল।
এদিকে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও এই ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুজাতা শর্মা এক ব্রিফিংয়ে জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু একদিনেই প্রায় ২ হাজার ৬০০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রায় ৭০০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হায়দরাবাদের এই ঘটনায় জড়িত ডিস্ট্রিবিউটরকে ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা কবরস্থান থেকেই বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি উভয় ধরনের সিলিন্ডার প্রায় তিনগুণ দামে বিক্রি করছিল। যেখানে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ১০০ ভারতীয় রুপি, সেটি তারা সর্বোচ্চ ৬ হাজার ০০০ রুপিতে বিক্রি করেছে।
কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে বলেছে, গৃহস্থালি ভোক্তাদের জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও এলপিজির দাম স্থিতিশীল আছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কেরোসিন, কয়লা ও বায়োগ্যাস। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ দ্রুত সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ আরও সতর্ক করে বলেছে, কবরস্থানের মতো স্থানে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং শহরের অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের বেআইনি মজুতদারি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানিয়েছেন, বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য