ইরান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন সামরিক বিমানকে ঢুকতে দিলো না অস্ট্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন টানাপড়েন তৈরি করেছে। নিরপেক্ষতার নীতি দেখিয়ে এবার অস্ট্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এটি মার্কিন মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যত তীব্র হচ্ছে, ততই ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থনও পড়ছে প্রশ্নের মুখে।
সংবাদমাধ্যম নিউজউইক বলছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-সম্পর্কিত সামরিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি অস্ট্রিয়া। দেশটি তাদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানান, ‘নিরপেক্ষতার কারণে অস্ট্রিয়া এমন কোনও বিমান বা সেনা চলাচলের অনুমতি দেয় না, যা কোনও সংঘাতে এক পক্ষকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। যদি জানা যায়, কোনও সামরিক বিমান বা যান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িত, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সেই ফ্লাইট বা চলাচল বাতিল করা হয়।’
অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওআরএফ রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরান যুদ্ধ-সংক্রান্ত সামরিক কার্যক্রমে আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গৃহীত নিরপেক্ষতার আইনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একাধিক অনুরোধ এসেছিল, তবে সেগুলোর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিটি অনুরোধই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কারণ অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী চলমান সশস্ত্র সংঘাতে কোনও পক্ষকে সামরিক সহায়তা দেয়া নিষিদ্ধ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের এমন দেশগুলোর তালিকায় অস্ট্রিয়াও যুক্ত হলো, যারা ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত করছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার কিছু ইউরোপীয় মিত্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন যে বাড়ছে, অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ সেটিই সামনে এনেছে।
অস্ট্রিয়া ন্যাটোর সদস্য না হলেও ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে দেশটির অবস্থানের কারণে অস্ট্রীয় আকাশসীমা পশ্চিম ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে স্পেন ও ইতালিও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বা ঘাঁটি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস থেকে সমালোচনা করা হয়েছে এবং জোটের ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে ন্যাটোর সদস্য স্পেন তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে।
এছাড়া অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের দেশগুলোর মনোভাবও তুলে ধরছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরান যুদ্ধে জড়াতে অনীহা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ফ্রান্সের সমালোচনা করেন, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানকে ইসরায়েলে যাওয়ার পথে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্স ‘সহযোগিতা করছে না’ এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত ‘মনে রাখবে’। তবে ফরাসি কর্মকর্তারা জানান, তারা সব ধরনের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেনি; বরং আন্তর্জাতিক আইন ও তাদের নীতির ভিত্তিতে প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অস্ট্রিয়া ন্যাটোর সদস্য নয়। ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মিত্রশক্তির দখলদারিত্ব শেষ হওয়ার পর দেশটি সংবিধানে নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করে। যদিও অস্ট্রিয়া সীমিত পরিসরে ন্যাটোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু প্রতিরক্ষা উদ্যোগে অংশ নেয়, তবে আইন অনুযায়ী তারা কোনও সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে না বা চলমান সংঘাতে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে পারে না।
আর এই নিরপেক্ষতার নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের মূল ভিত্তি। তবে অস্ট্রিয়ার কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি সব ধরনের মার্কিন সামরিক বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং শুধু সেই বিমানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো সরাসরি চলমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য