প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

১০ দেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১:৫২

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।

এদিন সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান- বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল এবং সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা দেখছি- আমরা অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি অর্থনীতি পেয়েছি। এরপরও এই সময়ের মধ্যে যতটুকু সম্ভব দুর্নীতির টুটি চিপে ধরে এবং বিভিন্ন জায়গায় লিকেজ (অনিয়ম) বন্ধ করার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি- কীভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণ ও দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থের প্রবাহের পরিমাণ ছিল ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বছর হিসেবে ভাগ করলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ দশমিক ৮ লক্ষ কোটি টাকা।

তারেক রহমান বলেন, পাচারকৃত এই অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইন সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আইন সহায়তা চুক্তি বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট্রিটি সম্পাদন এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্টের বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার সঙ্গে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশে পাচারের টাকা যাওয়ার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থপাচারের গন্তব্য যে দেশগুলো প্রাথমিকভাবে সরকার চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে, সে দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং। এরমধ্যে ৩টি দেশ- মালয়েশিয়া, চীনের হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুতসময়ে এটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে টাস্কফোর্স গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তসংস্থার টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলো অনুসন্ধান এবং তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল- শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এ সময় জিআইটি গঠনের পর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য