মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ণ

রেমিট্যান্সে ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, এক মাসেই এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার

১ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৩১:৩৭
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) এক অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে মার্চ মাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন (৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ) মার্কিন ডলার। স্বাধীনতার পর থেকে একক কোনো মাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তি। বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চে, যার পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরেও ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, যা এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে প্রবাসীরা স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। মূলত ঈদের কেনাকাটা ও উৎসবের প্রয়োজনেই এই প্রবাহ বেড়েছে। এ ছাড়া বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে কড়াকড়ি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মসংস্থান স্থিতিশীল থাকা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মার্চ মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

তবে এই রেকর্ড প্রবাহের মধ্যেও দেশের ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। ব্যাংকগুলো হলো—রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

অর্থনীতিবিদরা এই রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে নতুন শ্রমিক রপ্তানি বাড়ানো এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD