জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল রাশিয়া

১ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪০:২৬

এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পক্ষ থেকে দেওয়া আসন্ন ইস্টার বা পুনরুত্থান পার্বণ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলেনস্কির এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের ইস্টার ছুটির সময় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তিনি এই উদ্যোগকে একটি ‘আপস’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, যারা জীবনকে শ্রদ্ধা করে এমন সব ‘স্বাভাবিক মানুষ’ একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজবে। তবে রাশিয়ার দাবি, এই প্রস্তাবের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্টভাবে উচ্চারিত পরিকল্পনা নেই। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে যুক্তি দেখান, বর্তমানে রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনেরই যুদ্ধ বন্ধ করা বেশি জরুরি। পেসকভের মতে, রুশ বাহিনী এখন পুরো রণক্ষেত্র জুড়েই অগ্রসর হচ্ছে—কোথাও দ্রুত আবার কোথাও কিছুটা ধীরগতিতে। তিনি উল্লেখ করেন, জেলেনস্কিকে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ সময় যত অতিবাহিত হবে এই সিদ্ধান্তের মূল্য তত বৃদ্ধি পাবে।

পেসকভ আরও জোর দিয়ে বলেন, জেলেনস্কিকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে এবং এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা কেবল একটি সাময়িক বিরতি নয় বরং স্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে। রাশিয়ার এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, তারা বর্তমান সামরিক সুবিধাজনক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনকে আরও চাপের মুখে রাখতে চায়। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এককভাবে ইউক্রেনের সঙ্গে একটি ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তবে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। সেই সময় জেলেনস্কি ৩০ ঘণ্টার এই বিরতিকে ৩০ দিনে বর্ধিত করার অনুরোধ জানালেও পুতিন তা অগ্রাহ্য করেছিলেন।

এবার জেলেনস্কি ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের চাপ কমাতে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন। পেসকভ সরাসরি সেই প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা বন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবারের মতো হামলা চালানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে উস্ত-লুগা এবং পার্শ্ববর্তী প্রিমোরস্ক বন্দরে ইউক্রেন বারবার আঘাত হানছে যাতে আকাশচুম্বী তেলের বাজার থেকে রাশিয়া অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে না পারে। ইউক্রেনের এই কৌশলী অবস্থান এবং রাশিয়ার পাল্টা আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সাথে মিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। আপাতত রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কির প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় আসন্ন ইস্টারেও রণক্ষেত্রে শান্তি ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর। সূত্র: মস্কো টাইমস

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য