ইরানের হামলায় মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ২ টুকরো, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড় হিসেবে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) গোয়েন্দা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন বিমানটি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের ‘ওয়েভ ৮৪’ (Wave 84) অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়। হামলায় তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত মিসাইলের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এই হামলা চালানো হয়।
আমাদের হাতে আসা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর ৮১-০০০৫ নম্বর যুক্ত ই-৩জি সেন্ট্রি বিমানটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানের পেছনের অংশ, যেখানে বিশাল ঘূর্ণায়মান রাডার ডোম (Radar Dome) থাকে, সেটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ইমেজে একাধিক কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান এবং ঘাঁটির লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। আক্রান্ত বিমানটি সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি মার্কিন আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মূল শক্তি ‘AWACS’ (Airborne Warning and Control System)।
কাজ: এটি আকাশে উড়ন্ত রাডার স্টেশন হিসেবে কাজ করে, যা ২৫০ মাইলের বেশি দূর থেকে শত্রু বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করতে পারে।
মূল্য: প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষত্ব: এর পিঠে থাকা ৩০ ফুট চওড়া ঘূর্ণায়মান রাডার ডোমটি যুদ্ধের ময়দানে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।
এই হামলার পর রিয়াদ এবং আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করার দাবি করলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই, তাদের ৮২ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে দমনে আরও কঠোর হওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সৌদি আরব ও ইরানের সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্যসূত্র: টি ও আই
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য