প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: যেভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরলেন খাইরুল

২৬ মার্চ ২০২৬, ৮:৪১:৩৬

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির আগে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের ২৫ বছর বয়সী যুবক খাইরুল ইসলাম। তবে তীরে উঠে আসার পর এক ব্যক্তির কাছে নিজের মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগ করেন তিনি। খাইরুল ঢাকার একটি গার্মেন্টসে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করেন।

খাইরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে খোকসা থেকে বি-২ নম্বর সিটে তিনি কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি যাত্রা শুরু করে এবং সব আসনই যাত্রীতে পূর্ণ ছিল।

দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি লাগে এবং মুহূর্তেই সেটি নদীতে পড়ে যায়। খাইরুল বলেন, “মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু ঘটে যায়। আমি সিট থেকে উঠে দরজা দিয়ে লাফিয়ে নদীতে পড়ি। কীভাবে পানিতে পড়লাম, তা ঠিক মনে নেই।”

তিনি আরও জানান, সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক ব্যক্তি সাহায্যের কথা বলে তার মোবাইল ফোন নিয়ে আর ফেরত দেননি।

খাইরুল বলেন, তার পাশের সিটের যাত্রীও খোকসা থেকে উঠেছিলেন। তবে ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য নেমে যান এবং পরে আবার ফিরে আসেন। তাকে বসতে জায়গা করে দিতে গিয়ে খাইরুল দাঁড়ান। ঠিক তখনই বাসে ঝাঁকুনি লাগলে তিনি দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে যান।

তিনি দাবি করেন, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন এবং প্রতিটি আসনে যাত্রী ছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি ছিল।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টারের মাস্টার রাকিব হোসেন জানান, বি-১ ও বি-২ সিটের যাত্রী দুজনই খোকসা থেকে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম জীবিত উদ্ধার হলেও বি-১ সিটের যাত্রী রাজিব মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, চালককে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় চালক আরমান নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তার মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন এবং হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়।

এ ঘটনায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কুষ্টিয়ার চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের তিন বছর বয়সী ছেলে ইস্রাফিল এবং শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।

উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য