শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বললেন ঢাবির অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান

২০ মার্চ, ২০২৬ ২:১৯:০৫

এবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের খবরে শিক্ষামন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে দলীয় লোকদের বাছাই করার সমালোচনা করেছেন এই ঢাবি অধ্যাপক। অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন লিখেছেন, দুনিয়াতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ করতে কত যোগ্য মানুষেরা মিলে সারা দুনিয়া সেচে মুক্ত খোঁজার মত করে ভিসি খুঁজে। সেই ভিসিদের ক্ষমতা আবার আমাদের ভিসিদের ক্ষমতার সিকি ভাগও না। বিশ্বের ভালো ভালো ভিসিকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই চেনে না। আর আমাদের ভিসিদের অসীম ক্ষমতা। সেই অসীম ক্ষমতাধর ৮ ভিসিকে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমাদের একজন শিক্ষা মন্ত্রী এক/দুইদিনের মধ্যে খুঁজে পেয়ে ফেলছেন।

তিনি লিখেছেন, অথচ এর মাত্র দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিল ভিসি নিয়োগের আন্তর্জাতিক নীতিমালা। বলেছিল শিক্ষা থেকে রাজনীতি দূরে রাখবে। কিন্তু শেষমেশ একদম দলের কোর লোকদের বেছে বেছে নিয়োগ দিয়েছেন। আবার শিক্ষা মন্ত্রী উঁচু গলায় বলে উনি নাকি সবার সিভি দেখে নিয়োগ দিয়েছেন। যদি দেখেই থাকেন তাহলে আমাকে বলতেই হবে আপনার যোগ্য ভিসির সিভি দেখে যোগ্যতা যাচাইয়ের যোগ্যতাই নাই। আপনি ব্যর্থ। এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে যেই সামান্য আশা ছিল দেশের ছেলেমেয়েরা হয়ত ভালো বিশ্ববিদ্যালয় পাবে, শিক্ষা ও গবেষণার মানের উন্নতি হবে সেই আশা একদম নিভে গেছে। জেনে রাখুন আপনি একাই বিএনপির আয়ু অনেকটা কমিয়ে দিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, পৃথিবীর এমন একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয় দেখান যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন থেকে শুরু করে সকল ক্ষমতা এক বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি স্বৈরাচারী সিস্টেমের বীজ থাকে সেই দেশ স্বৈরাচারী না হওয়ার শিক্ষা কোথায় পাবে? ঢাবি অধ্যাপক লিখেছেন, এক বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে সরকারের পক্ষে এই একজন ভিসিকে নিয়ন্ত্রণ করলেই গোটা বিশ্ববিদ্যালয়টা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সরকার তখন তার অনুগত ছাত্র ও শিক্ষকদের রাজনীতির চৌকিদার হিসাবে ব্যবহার করে। সরকার বেকায়দায় পরে এমন কোন দাবি কখনো করে না। শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করে না। গবেষণা ও ছাত্রদের নানা সুবিধা বৃদ্ধির দাবি করে না। কোন ভিসিকে আজ পর্যন্ত দাবি করতে শুনেছেন যে শিক্ষায় জিডিপির অন্তত ৫.৫% বা তার চেয়ে বেশি দেওয়ার দাবি করতে? সরকারি ছাত্র বা শিক্ষক সংগঠনকে কখনো শুনেছেন শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করতে?

দেশের কিংবা শিক্ষার কল্যাণে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি করা হয় না উল্লেখ করে কামরুল হাসান মামুন আরও লিখেছেন, আমাদের দেশের সরকারগুলো শুধু এই জন্য ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি জিইয়ে রাখে। দেশের কল্যাণে, শিক্ষার কল্যাণে না। এমনও দেখেছি শিক্ষায় বরাদ্দ কমিয়েছে কিন্তু ছাত্ররা পরদিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাজেটের পক্ষে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে।

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD