স্বাধীনভাবে কথা বলতে দিলেই ওলামায়ে কেরামদের সম্মান বেশি হবে: ফয়জুল করীম
এবার ওলামায়ে কেরামের সম্মান বেশি হবে যদি তাদের স্বাধীনভাবে কথা বলতে দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের খেলাফ করে যতক্ষণ তারা কথা না বলবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তাদের বাধা না দেয়া হয়, এটাই আমার একটি প্রস্তাব। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম ও মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য বলেন।
মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, সভাপতিকে সালাম না দেয়ার কারণে ইমামকে বিদায় দিয়ে দেয়া হয় আজকে। সভাপতিকে সম্মান দেয়ার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। হয়তো বাজারটা ঠিকমতো সেক্রেটারির বাড়ি পৌঁছে না দেয়ার কারণে মুয়াজ্জিনকে বরখাস্ত করে দেয়া হয়। আমি আজকে আমার প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব—একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত, কোন কারণে তাকে বরখাস্ত করা হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে মাথা নেড়ে তার এই প্রস্তাবে সায় দিতে দেখা যায়। জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।
এ সময় ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, আকিদা এবং কোরআন-সুন্নাহর অনুকূলে যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ কোনো অবস্থাতেই তাকে বরখাস্ত করা যাবে না। সম্মানী ভাতা যেন নিয়ন্ত্রণের কোনো মাধ্যম না হয়। সরকার যেন ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ন্ত্রণ না করে; বরং এই ভাতা সম্মানী ভাতা হিসেবেই থাকবে। যদি ভাতাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম করা হয়, তাহলে কিন্তু তা হিতে বিপরীত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এমন কিছু মানুষ এখানে একত্রিত হয়েছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া মানুষ যাদের সম্মান করে। জীবনের কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছ থেকে মানুষ সঠিক পরামর্শ আশা করে এবং পেয়েও থাকে।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা অর্থনৈতিকভাবে হয়তোবা কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য একটি সম্মানি বা আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই মিলে একটু শান্তিতে, একটু ভালোভাবে থাকব—জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সে রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। জনগণের রায়ে আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তাবায়নের কাজ শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এর জন্য আমি আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়েপড়া নারী সমাজের জন্য ইতোমধ্যে আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানরা এ কার্ড পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে আমরা কৃষক কার্ড চালু করব। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে আমাদের খালখনন কর্মসূচি। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, আজ থেকে চালু হলো খতিব ইমাম মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি; যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেয়া হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।
নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। তবে নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সর্বশেষ
Office: Airport haji camp
Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com
Developed by RL IT BD
মন্তব্য