বাংলাদেশকে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল পাকিস্তান
ছবি-সংগৃহীত
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে সমান ১১৪ রানে গুটিয়ে ডার্ক লুইস মেথড পদ্ধতিতে ১২৮ রানে হারিয়েছে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সিরিজে সমতা ফেরাল পাকিস্তান। আগামী ১৫ মার্চ মাঠে গড়াবে সিরিজ নির্ধারিত অলিখিত ফাইনাল ম্যাচটি।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগে ব্যাট করে ৪৭.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান তুলে পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলার পর হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের নতুন সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১৩ রানের মাথায় পরপর আউট হয়েছেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (১) ও সাইফ হাসান (১২)। স্কোরবোর্ডে ২ রান যোগ হতেই ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তও (০)। বিপর্যয় সামলানোর লক্ষ্যে ক্রিজে আসেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়।
কিছুক্ষণ বাদেই অবশ্য তুমুল বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে তাদের মাঠ ছাড়তে হয়। দুই ঘণ্টা পর নতুন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা লিটন-হৃদয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতোই আগ্রাসী হতে হতো, সেটাই করছিলেন তারা। কিন্তু দু’জনের জুটিতে ৫৮ রান হতেই সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন লিটন। ফেরার আগে করলেন ৩৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রান।
এরপর আফিফ হোসেন (১৪), মিরাজ (১) ও রিশাদ হোসেনও (২) ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। লিটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে থাকা হৃদয়ও পরে দ্রুতই দম হারালেন। ৩৮ বলে তিনি করেন ২৮ রান। তাতে শেষ ১৯ রান তুলতেই বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৫১ বল বাকি থাকতেই অলআউট বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন।
এর আগে, টস জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন পাকিস্তানের তরুণ ওপেনার মাজ সাদাকাত। অন্যদিকে, তাকে সঙ্গ দিতে থাকেন আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।
মাত্র ৩১ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন সাদাকাত। আর ওপেনিং জুটিতে আসে ১০৩ রান। ইনিংসের ১৩তম ওভারে সাদাকাতকে আউট করার মাধ্যমে এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৭৫ রান করেন সাদাকাত। মাত্র ৪৬ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও পাঁচটি ছয়ে সাজানো।
এরপর ব্যাট করতে নামেন তরুণ তারকা ক্রিকেটার শামিল হুসাইন। সাহিবজাদা ফারহানকে সঙ্গ দিতে দেখে-শুনে খেলছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে রেখে সাজঘরের পথ ধরেন ফারহান। আউট হওয়ার আগে ৪৬ বলে ৩১ রান করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে আউট হন শামিলও। তিনি করেন ২২ বলে ৬ রান।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকেন মোহাম্মদি রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। এসময় দুজন মিলে গড়েন ১০৯ রানের জুটি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় পাকিস্তান। বিতর্কিত রান আউট হওয়ার আগে ৬৪ রান করেন সালমান। ৬৩ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি সাতটি চার ও একটি ছয়ে সাজানো। এদিকে মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হন ৪৪ রান।
এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ ছয় ব্যাটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন ফাহিম আশরাফ। এছাড়া আব্দুল সামাদ ১১, হুসাইন তালাত ৯, শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩, মোহাম্মদ ওয়াসিম ১ ও হারিস রউফ ২ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। দুটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর একটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।
Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

























মন্তব্য