বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ

ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সব ইরানি ড্রোন ঠেকানো হয়ত সম্ভব না: মার্কিন কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি

৫ মার্চ, ২০২৬ ৩:১৯:২৯

এবার মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদ লক্ষ্য করে ইরান যেসব ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটি নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে। মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরান বর্তমানে হাজার হাজার একবার ব্যবহারযোগ্য আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করেছে। মার্কিন বাহিনীর অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করার সক্ষমতা থাকলেও ঝাঁকে ঝাঁকে আসা এসব ড্রোনের সব কটি ঠেকানো হয়তো সম্ভব হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ঠেকানোর চেয়ে সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থলগুলো যত দ্রুত সম্ভব ধ্বংস করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান বর্তমানে তাদের স্বল্পমূল্যের ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করছে। অত্যন্ত নিচ দিয়ে ও ধীরগতিতে ওড়ার কারণে এসব ড্রোন সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিঃশেষ করে ফেলাই ইরানের কৌশল। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে ড্রোনগুলো ভূপাতিত করায় ইরানের সেই কৌশল সফল হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। তবে কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জেনারেল কেইন ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও প্রকাশ্যে আশ্বস্ত করে বলেছেন, পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুদ রয়েছে। বুধবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে পর্যাপ্ত নিখুঁত অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।’

এই যুদ্ধের খরচও আকাশচুম্বী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিন প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এই ব্যয় দিনে ১০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে এবং সামনে তা আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘কার্যত সীমাহীন’ এবং তারা অনির্দিষ্টকাল এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে একদম উচ্চপর্যায়ের আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুদ যতটা থাকা দরকার, ততটা নেই।

বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মূলত আগের বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন, যারা ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে মজুদে টান ফেলেছে। লেভিট আরও দাবি করেন, ‘বিশ্বের এমন সব জায়গায় আমাদের অস্ত্রের গোপন মজুদ আছে যা অনেকেই জানেন না।’

Sangbad Bela’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য

সর্বশেষ

Editor & Publisher: Md. Abdullah Al Mamun

Office: Airport haji camp

Phone: +8801712856310 Email: sangbadbela@gmail.com

Developed by RL IT BD